গন্তব্য গাইড
আট কবর, জগন্নাথপুর
Aat Kobor (Eight Graves), Jagannathpur
দামুড়হুদার জগন্নাথপুর গ্রামে ১৯৭১-এ শহীদ আট মুক্তিযোদ্ধার কবর — চারটা করে দুই গর্তে দাফন হয়েছিল বলেই নাম 'আট কবর'। যারা গিয়েছেন, তারা বলেন জায়গাটা সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। ১৯৯৮ সালে ০.৬৬ একর জায়গার ওপর কমপ্লেক্স তৈরি হয় — লাইব্রেরি, গ্যালারি আর খোলা মঞ্চসহ। মুজিবনগর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
৩-৫ আগস্ট ১৯৭১ — জগন্নাথপুরের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া যোদ্ধারা বাগোয়ানের দিকে অভিযানে বের হয়; ৫ আগস্ট ভোরে নাটুদহ ক্যাম্পের পাকিস্তানি বাহিনী আখের ক্ষেতে অ্যামবুশ সাজিয়ে বসে। আড়াই ঘণ্টার লড়াইয়ে পিছু হটার সময় কভার দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন হাসান জামান — শহীদ হন তিনিই। মোট শহীদ আটজন — গ্রামবাসী রাস্তার পাশেই তাঁদের কবর দেন। শহিদদের নামের তালিকায় আছেন হাসান জামান, খালেদ সাইফুদ্দিন তারেক, রৌশন আলম, আলাউল ইসলাম খোকন, আবুল কাসেম, রবিউল ইসলাম, কিয়ামউদ্দিন, আফাজ উদ্দিন।
কীভাবে যাবেন
চুয়াডাঙ্গা থেকে দামুড়হুদা হয়ে জগন্নাথপুর — বাস/অটো দামুড়হুদা পর্যন্ত, তারপর রিকশা-ভ্যান। মেহেরপুরের মুজিবনগর দিক থেকে এলে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
কমপ্লেক্সে ঢুকতে টিকিট লাগে না বলেই জানা যায়।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
নির্দিষ্ট সময় যাচাই হয়নি — দিনের আলোতে গেলেই ভালো।
ভালো সময়
সকালবেলা শান্ত পরিবেশ — মুক্তিযুদ্ধের গ্যালারিটা ধীরে ধীরে দেখার সময় তখন।
টিপস
পাশের গির্জাটাও চোখে পড়বে — এলাকায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ কত বছর ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে, তারই চিহ্ন।
গ্যালারিতে শহিদদের নাম-পরিচয় পড়ে নিন — কবরগুলো তখন আরও অর্থবহ লাগবে।
ট্রিপটা মুজিবনগরের সঙ্গে জুড়ে নিলে এক দিনেই পুরো ইতিহাসটা কভার হয়ে যায়।
অবস্থান
এই গন্তব্যের সঠিক স্থানাঙ্ক এখনো যাচাই করা যায়নি — তাই মানচিত্রে নির্দিষ্ট অবস্থান দেখানো হচ্ছে না।