
বাহাদুরাবাদ ঘাট — ছবি — Dolon Prova · CC BY-SA 4.0
গন্তব্য গাইড
বাহাদুরাবাদ ঘাট
Bahadurabad Ghat
দেওয়ানগঞ্জের শেষ প্রান্তে, যমুনার পাড়ে — যেখানে জামালপুরের রেলের ইতিহাস আর নদীর জীবন মিশে গেছে। বিশাল আধুনিক ফেরি টার্মিনালটা চুপচাপ বন্ধ পড়ে আছে, অথচ কাঠের নৌকা আর ট্রলার এখনো নদী পার করছে — যারা গেছেন, তারা এই দৃশ্যটাকেই জেলার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্য বলেন।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
রেললাইন এখানে পৌঁছায় ১৯১২ সালে, আর ১৯৩৮ সালে এই ঘাট থেকেই চালু হয় অঞ্চলের প্রথম রেলওয়ে ফেরি। যমুনা সেতু চালুর পর (১৯৯৮; রেল ২০০৫-এ) ফেরির দিন শেষ, শেষ লাইনটাও চুপ হয়ে যায় — এক বৃদ্ধ বন্ধ হওয়ার সময়টা ২০১২-র দিকে ধরেন, তবে বছরটা নিয়ে লোকালদের স্মৃতিতে কয়েক দশকের তফাত আছে। অনেকে নামটা ১৮৫৭-এর সিপাহি বিদ্রোহ-যুগের এক বাহাদুরের সাথে যুক্ত করেন। এখন বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনাল পড়ে আছে অলস, সব হিসাব নৌকার।
কীভাবে যাবেন
দেওয়ানগঞ্জ স্টেশন থেকে (ঢাকা থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস বা দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার): রিজার্ভ অটো ৬০ টাকা, লাগে ১৫ মিনিট। বালাশীঘাটে (ফুলছড়ি, গাইবান্ধা) নৌকা: জনপ্রতি ৩০০ টাকা; নৌকা ছাড়ে সকাল ৮:৩০, ১১:৩০, দুপুর ১:৩০ আর ৩টায় — ৩টারটাই শেষ, সন্ধ্যায় নৌকা নেই। স্রোত অনুযায়ী পার হতে ১-৩ ঘণ্টা লাগে। ফুলছড়ির ট্রলার দিনে একবার চলে, ভাড়া প্রায় ২৫০ টাকা জনপ্রতি।
প্রবেশমূল্য
৳০–৩০০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
ঘাট এলাকায় ঢুকতে টাকা লাগে না; নদী পার হতে নৌকার ভাড়া ৩০০ টাকা জনপ্রতি।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
দিনের বেলা, নৌকার সময় অনুযায়ী — প্রথম নৌকা সকাল ৮:৩০, শেষটা ৩টা; সন্ধ্যায় নৌকা নেই।
ভালো সময়
সকালের আলো আর ৮:৩০-এর নৌকার দৃশ্যই সেরা মুহূর্ত; বর্ষায় নদী ভরে ওঠে, কিন্তু নৌকা বন্ধ থাকতে পারে।
টিপস
পুরোনো ব্রিটিশ আমলের ঘাটের পথ ড্রাইভাররা না-ই জানতে পারেন — নদী সরে গেছে, জায়গাটাও দূরে।
ছেড়ে দেওয়া লাইনের রেলগুলো এখন পাশের বাড়ির খুঁটি হয়ে আছে — লোকালরা দেখিয়ে দেন।