
বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার — ছবি — Al Riaz Uddin · CC BY-SA 4.0
গন্তব্য গাইড
বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার
Bayazid Bostami Shrine
নাসিরাবাদের পাহাড়ি টিলায় চট্টগ্রামের সবচেয়ে পরিচিত ধর্মীয় স্থানগুলোর একটা। মাজার সংলগ্ন পুকুরের বিশাল প্রাচীন কচ্ছপগুলোই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ — ভক্তরা এদের খাওয়াতে ভালোবাসেন, আর বাচ্চারা পুকুরপাড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে জিয়ারতি আর পর্যটক আসেন।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.) ছিলেন ইরানের বোস্তামে জন্ম নেওয়া বিখ্যাত সুফি সাধক। কিংবদন্তি অনুসারে পুকুরের কচ্ছপগুলো এক সময় জিন ছিল — সাধকের রোষানলে পড়ে শাস্তি হিসেবে কচ্ছপে রূপান্তরিত হয়। তিলার পায়ের মসজিদটা ঔরঙ্গজেবের আমলের বলে ধারণা করা হয়, আর সমাধিটা ১৮৩১ সালে আবিষ্কৃত হয়। ইতিহাসিকরা অবশ্য বলেন, তাঁর এ অঞ্চলে আসার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। কচ্ছপগুলো বিলুপ্তপ্রায় কালো গজ কাছিম প্রজাতির — মাজার কমিটি এদের রক্ষা করে।
কীভাবে যাবেন
অবস্থান বায়জিদ বোস্তামী রোড, নাসিরাবাদ — জিইসি মোড় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার। ২ নং গেট বা অক্সিজেন মোড় থেকে সিএনজি, রিকশা বা বাসে সরাসরি মাজারের সামনে নামা যায়।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
মাজারে ঢোকা সম্পূর্ণ ফ্রি। কচ্ছপের খাবার পুকুরপাড়ের ছোট দোকান থেকে ১০-২০ টাকায় কেনা যায়।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
মাজার-এলাকা সাধারণত সারাদিন খোলা থাকে, তবে নির্দিষ্ট সময়সূচির কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাইনি।
ভালো সময়
সকালে গেলে ভিড় কম — বিকেলে কচ্ছপ খাওয়ানোর দৃশ্যটা সবচেয়ে প্রাণবন্ত।
টিপস
জায়গাটা পবিত্র — শালীন পোশাকেই যাওয়া ভালো, আর ভেতরে নীরবতা রক্ষা করুন।
কচ্ছপকে বেশি খাওয়াবেন না — দোকানের খাবারই যথেষ্ট, লোকে বলে অতিরিক্ত খাওয়ালে প্রাণীর ক্ষতি হয়।
ফয়েজ লেক বা জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের সাথে এক দিনে মিলিয়ে ঘোরা যায় — সবগুলোই শহরের ভেতরে।