গন্তব্য গাইড
দিনাজপুর রাজবাড়ী
Dinajpur Rajbari
শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার — দিনাজপুরের জমিদারি ইতিহাসের মূল ঠিকানা। আয়না মহল, রানি মহল আর ঠাকুরবাড়ি মহল মিলিয়ে প্রায় ১৬ একর জায়গা জুড়ে। সত্যি বলতে, বেশিরভাগ অংশ এখন ভাঙা — তবে ইতিহাস ভালোবাসলে ভাঙা দেয়ালের ভেতরেও রাজকীয় দিনগুলোর ছায়া দেখতে পাবেন।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
কে এটা প্রথম বানিয়েছিলেন, গল্পটা ঝাপসা — কেউ বলেন রাজা দিনরাজ ঘোষ, আবার অনেকের মতে পঞ্চদশ শতকের শুরুর দিকে রাজা গণেশ। পরে কাশী ঠাকুর থেকে শ্রীমন্ত দত্ত চৌধুরী, তার নাতি সুখদেব — ১৬৭৭ সালে আওরঙ্গজেব তাকে রাজা উপাধি দেন। ১৬৮২-এ ক্ষমতায় আসেন পরিবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজা প্রাণনাথ। আয়না মহলটা উঠেছিল প্রাণনাথ আর রামনাথের আমলে। ১৯৫১-এ জমিদারি উচ্ছেদের পর জৌলুস ভাটা পড়ে; সর্বশেষ জমিদার জগদীশনাথ ১৯৬২ সালে কলকাতায় মারা যান। জায়গাটা এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আসেনি বলে ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে।
কীভাবে যাবেন
শহর থেকে রিকশা বা অটোতে ৩ কিলোমিটার। এক গ্রুপ ভ্রমণকারী রাজবাড়ি, সুখসাগর, মাতাসাগর — তিন জায়গা মিলিয়ে ১০০ টাকায় অটো রিজার্ভ করেছিল।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
টিকিটের কথা কেউ বলেননি — ভেতরে ঢোকা সহজ বলেই মনে হয়, তবু গিয়ে দেখে নিন।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
খোলা-বন্ধের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম কেউ জানাননি — দিনের আলোতেই ঘুরে আসুন।
ভালো সময়
সকাল বা বিকেলের নরম রোদে ভাঙা দেয়ালগুলোর ছবি ভালো আসে।
টিপস
রাজবাড়ির ভেতরের কালী মন্দিরটা দেখুন — অনেকে এখানেই ছবি তোলেন।
কান্তজীউ মন্দিরটাও বানিয়েছিল এই রাজপরিবারই — দুই জায়গা মিলিয়ে দেখলে ট্রিপটা পূর্ণ হয়।