গন্তব্য গাইড
গাবখান সেতু ও গাবখান চ্যানেল
Gabkhan Bridge & Channel
দেশের অন্যতম উঁচু রাস্তার সেতু, আর নিচে কৃত্রিম গাবখান চ্যানেল — যাকে লোকে গর্ব করে বলে "বাংলার সুয়েজ খাল"। বিকেলে হাজার হাজার মানুষ এসে সেতুতে বসে, ট্রাকের চাপে সেতুর কাঁপন টের পাওয়া যায়, আর দুই ধারে সবুজ প্রান্তর — বর্ষায় পেয়ারা বাগানে বদলে যায়। অনেকের ভাষায় — মনে হয় ড্রোন থেকে পুরো দুনিয়া দেখছি।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
গাবখান চ্যানেল কাটা হয় ১৯১৮ সালে, ব্রিটিশ আমলে — পিরোজপুরের সন্ধ্যা নদীকে জোড়া দেওয়া হয় ঝালকাঠির সুগন্ধার সঙ্গে। প্রায় ১৮ কিলোমিটার লম্বা এই জলপথ ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে মংলা যাওয়ার রুট প্রায় ১১৮ কিলোমিটার কমিয়ে দেয় — তাই নাম "বাংলার সুয়েজ"; দেশের একমাত্র কৃত্রিম আন্তর্জাতিক জলপথ এটাই। সেতুটা হয়েছে ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে, পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু হিসেবে — প্রায় ১.৮ কিলোমিটার লম্বা; খালের মাঝে খুঁটি নেই বলে লোকে একে "ঝুলন্ত সেতু"ও ডাকে।
কীভাবে যাবেন
সেতুটা বরিশাল-পিরোজপুর মহাসড়কে, ঝালকাঠির দিকে। শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে অটোরিক্সা প্রায় ৳১০-২০, লাগবে ১০-১২ মিনিট। খুলনা থেকে বরিশালমুখী বাসে সেতুর কাছেই নামা যায়।
প্রবেশমূল্য
৳০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
কোনো টিকিট নেই — সাধারণ রাস্তার সেতু।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
সারাদিনই খোলা; ভিড় জমে বিকেলে।
ভালো সময়
বিকেল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বাতাস-আলো-সবই সেরা; একা দেখতে চাইলে সকালে যান। বর্ষায় দুই ধারে বাগানের শোভা বাড়ে, তবে ছাতা-রেইনকোট সঙ্গে রাখুন।
টিপস
ট্রাক ছুটে চলার সময় কিনারা দিয়ে হাঁটা ঝুঁকির ব্যাপার — একদম ধারে থাকুন, বাচ্চাদের হাত ধরে রাখুন।
উঁচুতে মাথা ঘোরে এমন হলে সোজা নিচে তাকাবেন না; ভারী গাড়ির চাপে সেতু কাঁপে।
সেতুর গোড়ার বিশাল বটগাছতলায় বসে আড্ডা দিন — স্থানীয়দের প্রিয় জায়গা।
সেতুর নিচের ঢাল বেয়ে নামবেন না — কাঁটাতারে ঘেরা, পোকামাকড়ের ঝুঁকি।