গন্তব্য গাইড
খরমপুর কেল্লা শহীদ মাজার
Kharampur Kella Shahid Mazar
তিতাস নদীর তীরে আখাউড়ার খরমপুরে হযরত সৈয়দ আহমদ গেজুদারাজ (রহ.)-এর দরগা — লোকমুখে কেল্লা বাবা বা কেল্লাশাহ নামেই সবাই চেনে। যারা গিয়েছেন তারা বলেন, মাজারের উঠোনটা পুরোটাই মেলার মতো — গরম পিঠা, পুরি-সিঙারা, আচার, খাঁটি গরুর দুধ আর মাটির কলসে খেজুরের রসের সারি সারি দোকান। কাওয়ালির সুর আর ভক্তের ভিড় — আড়াইশো বছরের পুরোনো এই দরগায় পা রাখলেই অন্য এক অনুভূতি হয়।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
লোকে বলে, কেল্লা বাবা তরফ রাজ্যের রাজা আচক নারায়ণের সঙ্গে যুদ্ধে শহীদ হন; কাটা মাথাটা তিতাসের বুকে ভেসে আসে, আর স্থানীয় হিন্দু জেলেরা জালে তুলে দাফন করেন — বলা হয়, ওই জেলেদের বংশধররাই আজও মাজারের খাদেম। কেউ কেউ বলেন, তিনি শাহজালালের ৩৬০ আউলিয়ার একজন ছিলেন। আরেকটা শোনা কথা — একজন জানিয়েছেন, আগরতলার মহারাজা ২৬০ বিঘা জমি দিয়ে গেছেন।
কীভাবে যাবেন
ট্রেনেই সবচেয়ে সহজ — আখাউড়া স্টেশনে নেমেই রিকশা বা ভ্যানে যাওয়া যায়, মাজার খুব কাছেই। একজন যাত্রী জানিয়েছেন, অটো রিজার্ভ করলে দোরুইনের সমাধি, তিতাস ব্রিজ, স্থলবন্দর ঘুরে মাজার পর্যন্ত পুরো ট্রিপে প্রায় ৩৫০ টাকা লাগে। বর্ষায় ওরসের সময় নৌকা করেও ভক্তরা আসেন।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
টিকিট লাগে কি না কেউ বলেনি। ভক্তরা ইচ্ছেমতো নজরানা বা মানত দেন।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
সারাদিন খোলা থাকে বলেই মনে হয়, তবে সময়টা নিশ্চিত হওয়া যায়নি — দিনের আলোতে গেলে ভালো।
ভালো সময়
বর্ষায় বড় ওরস বসে — তখন নৌকায় ভক্তের আনাগোনা, সারা জায়গা উৎসব। সাধারণ দিনে শীতের সকাল আরামদায়ক।
টিপস
রওজা শরীফের কাছে ছবি তোলা চলে না — দূর থেকেই দেখুন, নিয়ম মানুন।
পিঠা, খেজুরের রস আর গরুর দুধের দোকানগুলো মিস করবেন না।
ওরসের দিনে ভিড় প্রচণ্ড হয় — জুতো আর ব্যাগের খেয়াল রাখুন।
নামাজের ওয়াক্তে নামাজঘরে জায়গা করে দিন। মাজারে শালীন পোশাকেই যাওয়া ভালো।