
মনপুরা দ্বীপ — ছবি — Arman333 · CC BY-SA 3.0
গন্তব্য গাইড
মনপুরা দ্বীপ
Monpura Island
ভোলার একমাত্র দ্বীপ উপজেলা — ৩৭৩ বর্গকিমি জুড়ে নদীমাখা এক শান্ত পৃথিবী। এক জায়গা থেকেই সূর্য ওঠাও দেখা যায়, ডোবাও। ১ কিমি লম্বা দক্ষিণা হাওয়া সিবিচে হ্যামক টাঙিয়ে বসে থাকা, কেওড়াবনের ভেতর দিয়ে মায়া ব্রিজ, হাজিরহাট ল্যান্ডিং স্টেশনের সূর্যাস্ত — আর মেঘনার জেলেদের সাথে ইলিশ ধরতে যাওয়ার ট্রিপ। অনেকে বলেন, 'কক্সবাজারের মতো না, তবে নিজস্ব একটা ভাইব আছে' — আর সবাই এক কথায় বলে, মনপুরার সবচেয়ে বড় সম্পদ এর মানুষ।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
প্রায় ৮০০ বছরের দ্বীপ। নামের পেছনে লোকগানের মতো গল্প — মনগাজী নামের এক ব্যক্তি দ্বীপ ইজারা নিয়ে বাঘের খপ্পরে পড়েন, তার নামেই মনপুরা। প্রায় ৪০০ বছর আগে পর্তুগিজ জলদস্যুদের ঘাঁটি ছিল। ১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে পড়া মনপুরা দেখে চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিন আঁকেন 'মনপুরা ৭০'। ২০০৯ সালের 'মনপুরা' ছবির শুটিং এখানেই হয় — তার পর থেকেই পর্যটকদের ঢল।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চ রামনেওয়াজ ঘাটে নামে — বিকেল ৫–৬টা (কেউ কেউ বলেন ৬–৮টা) ছাড়ে, ১২–১৩ ঘণ্টার পথ; ডেক ৩০০–৬০০, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০, ডাবল ২,০০০ টাকা। সাবধান — বেতুয়াগামী লঞ্চে উঠলে সরাসরি মনপুরা হবে না। বিকল্প: চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট থেকে জনতাবাজার ঘাটে লঞ্চ ১০০–১৩০ বা স্পিডবোট ২৫০–৩০০ টাকা। দ্বীপে ঘোরতে বাইক রিজার্ভ করুন — দিনে ৬০০–১,০০০ টাকা; অটো/ভ্যানে একদিনে পুরো দ্বীপ ঘোরা যায় না।
প্রবেশমূল্য
৳০ · নিশ্চিতকৃত
দ্বীপ বা সৈকতে ঢোকার কোনো টিকিট নেই — খরচ শুধু যাতায়াত আর থাকা।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
দিনের আলোতে ঘুরুন; ফেরার ঢাকার লঞ্চ দুপুর ২টার দিকে — তার আগে ঘাটে পৌঁছান।
ভালো সময়
শীত (অক্টোবর–মার্চ) — অতিথি পাখি, খেজুর রস, হাসের মাংস। বর্ষা-ঝড়ে নদী উত্তাল, জোয়ার-ভাটায় ঘাটের সময়সূচি বদলায়।
টিপস
ফেরার লঞ্চ দুপুর ২টায় — দুপুর ১২টার মধ্যে হোটেল ছাড়ুন।
বিখ্যাত হরিণ আসলে খুব কমই চোখে পড়ে — দেখার আশাটা মন থেকে বাদ দিয়ে আসুন।
হোটেল মনপুরায় মহিষের দুধের দই-মিষ্টি-ছানা হাত ছাড়াবেন না — ৩৫০ টাকা কেজি।
বিদ্যুৎ সীমিত, এটিএম নেই — পাওয়ার ব্যাংক আর নগদ টাকা সাথে রাখুন।
জেলেদের সাথে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা ৩০-র ইলিশ ধরার ট্রিপ — অনেকের কাছে পুরো ট্রিপের সেরা অংশ।