
পথরাইল শাহী মসজিদ — ছবি — অরণ্য · CC BY-SA 3.0
গন্তব্য গাইড
পাতরাইল মসজিদ
Pathrail Mosque
লোকে ডাকে "গায়েবি মসজিদ" — কোথা থেকে যেন হঠাৎ উঠে এসেছে। দশটা সমান সমান গম্বুজ, চার কোণে মিনার, দেয়াল জুড়ে পোড়ামাটির নকশা — যারা গিয়েছেন তারা বলেন, এটা ফরিদপুরের সবচেয়ে দামি প্রত্নসম্পদ। রোজ শত শত মানুষ আসে।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
মসজিদটা স্বাধীন সুলতানি আমলের। প্রচলিত হিসাবে তারিখ ১৩৯৩–১৪১০, সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহর সময় — বানানোর নাম আসে সুফি সাধক মজলিস আবদুল্লাহ খান আউলিয়ার, তাঁর মাজার মসজিদের পাশেই। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলে এটা হোসেনশাহী আমলের ইমারত — দুই তারিখ কখনো মেলে না, নির্মাণ-ফলকও কোনো পাওয়া যায়নি। লোকমুখে শোনা যায়, মসজিদটা এক রাতেই মাটির নিচ থেকে উঠেছে; সোজাসাপ্টা ব্যাখ্যা হলো — বহু বছর জঙ্গলে হারিয়ে ছিল, পরে লোকে খুঁজে পায়। ১৯৮৭–৯৩ সালে সংস্কার হয়, সংরক্ষণের কাজ এখনো চলে।
কীভাবে যাবেন
ভাঙ্গা উপজেলার চান্দনীয়া ইউনিয়নের পাতরাইল গ্রামে। শহর থেকে ভাঙ্গার বাস (৭০ টাকা) → ভাঙ্গা গোলচত্তর → পুলিয়া বাজার, বাজার থেকে প্রায় ৪ কিমি দক্ষিণে, ডান দিকের রাস্তা ধরে আর ৩–৪ কিমি। ভাঙ্গা থেকে ভ্যান রিজার্ভ করা যায় (যাওয়া-আসা প্রায় ৬০ টাকা), রিকশাও পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু পেরিয়ে ভাঙ্গা পাশ থেকেও আসা যায়।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
টিকিট লাগে না — এটা এখনো চলে এমন মসজিদ।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
রোজ নামাজের সময় খোলা থাকে; জুমাবার দুপুরে বড় জমায়েত হয়। শান্ত দেখতে চাইলে ছুটির দিন বাদে অন্য কোনো দিনের সকাল যাওয়াই ভালো।
ভালো সময়
সারা বছরই যাওয়া যায়; তবে শীতের সকাল সবচেয়ে আরামদায়ক।
টিপস
মাজারের সাইনবোর্ডে লেখা — সেজদা দেবেন না, শুধু জিয়ারত করুন।
শেষ অংশের রাস্তা সরু ও খারাপ — একটু ম্যাজম্যাজ করে যেতে হবে।
কম্পাউন্ডে এক-দুই ঘন্টা রাখুন — গায়েব দিঘি, মাজার আর উঠানের ভাঙা গম্বুজসহ সবটাই তো দেখার জন্য।