
রংপুর চিড়িয়াখানা — ছবি — Emdadul hasan · CC BY-SA 4.0
গন্তব্য গাইড
রংপুর চিড়িয়াখানা
Rangpur Zoo
রংপুর চিড়িয়াখানা শহরের প্রাণকেন্দ্রেই, পুলিশ লাইন সড়কের পাশে হনুমানতলায়। ২১.৫ একর জায়গায় ৩২ প্রজাতির প্রায় ২৫০ প্রাণী নিয়ে এটা দেশের বড় চিড়িয়াখানাগুলোর একটা, আর উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড়। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, জলহস্তী, জেব্রা, চিত্রা হরিণ, ইমু, ময়ূর, শকুন — দেশি-বিদেশি নানা পশুপাখি এখানে আছে। ভেতরে সবুজে ঘেরা পরিবেশ, একটা সুন্দর লেক আর ছোটদের খেলার জন্য শিশু পার্ক। অনেকে এটাকে বিনোদন উদ্যান নামেও চেনে। রংপুরে এলে পরিবার নিয়ে অর্ধেক দিন কাটানোর জন্য জায়গাটা হাতেনাতে।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
১৯৮৮ সালের ১৪ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু করে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চিড়িয়াখানাটা, আর ১৯৯১ সালের ১৪ জুন দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এটা পরিচালনা করে — দেশের দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার এটা একটা, আর উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আর প্রজনন কর্মসূচিতেও এর ভূমিকা আছে — হরিণ প্রজনন কার্যক্রম নিয়মিতই খবরে আসে।
কীভাবে যাবেন
চিড়িয়াখানা রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে, পুলিশ লাইন সড়কের পাশে হনুমানতলায়। ঢাকা থেকে এলে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে বা বাসে রংপুর নামুন। শহরের শাপলা চত্বর থেকে রিকশা ভাড়া ২০-৩০ টাকা। তাজহাট জমিদার বাড়ি থেকে সোজা এলে রিকশায় ২০-৩০ টাকা লাগবে। সৈয়দপুর থেকে এলে মিনিবাসে ৪০ মিনিটে রংপুর, তারপর রিকশায় আরও ১০ মিনিট। নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে এলে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে।
প্রবেশমূল্য
৳১০–২৫ · নিশ্চিতকৃত
চিড়িয়াখানার নিজস্ব ওয়েবসাইটের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী — মূল গেটে প্রবেশমূল্য ২৫ টাকা (৫ বছরের ওপরে); পাঁচ বছরের নিচে শিশু ও সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে। আবেদন করলে স্কুলের শিক্ষা সফরের দল মাথাপিছু ১০ টাকায় ঢুকতে পারে। ভেতরের শিশু পার্ক গেটে আলাদা ১০ টাকা, প্রতিটা রাইড ২০ টাকা। গাড়ি পার্কিং ২০ টাকা, মোটরবাইক ১০ টাকা।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
স্থানীয়দের হিসেবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা — তবে নির্দিষ্ট সময়তালিকা অফিসিয়ালি প্রকাশ নেই। চিড়িয়াখানার নিজস্ব নোটিশ বলছে, সাপ্তাহিক আর সরকারি ছুটির দিনেও তারা খোলা থাকে — অর্থাৎ সপ্তাহের বন্ধের দিন নেই।
ভালো সময়
জায়গাটায় প্রতিদিনই শত শত মানুষ আসে — শান্তভাবে ঘুরতে চাইলে কর্মদিবসের সকাল ধরুন, রোদও কম থাকে। শীতকালে ঘোরার আরামটা সবচেয়ে ভালো।
টিপস
খোলা খাবার নিয়ে হাঁটবেন না — বানর আর পাখিগুলো এক মুহূর্তেই হাত থেকে খাবার নিয়ে নেয়।
লেকটা অনেক গভীর — পানিতে নামবেন না, ছোটদের হাত ধরে রাখুন।
শিশু পার্কে ঢুকতে আলাদা ১০ টাকা — ছোটদের জন্য খেলনা, ভূতের বাড়িসহ নানা আয়োজন আছে।
নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল আনলে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে।
চিড়িয়াখানার পাশেই আচার আর ঝাল মুড়ির দোকান মিলবে — ঘুরে বেরিয়ে নাস্তা করে নিতে পারেন।
জায়গাটা বড় না — তাড়াটানা হাঁটলেও এক ঘণ্টার বেশি লাগে না; তবু পুরোটা না ছেড়ে পছন্দের খাঁচাগুলো সময় নিয়ে দেখুন।