গন্তব্য গাইড
ছোট সোনা মসজিদ
Choto Sona Mosque
পাঁচশ বছরের পুরোনো এই মসজিদটা চাপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে নামকরা দর্শনীয় স্থান। ইটের গায়ে পাথরের মিহি কাজ, গম্বুজ, ভেতরের ঠান্ডা আর শান্ত পরিবেশ। যারা গিয়েছেন তারা প্রায় সবাই এক কথায় বলেন — এই নিখুঁত কারুকাজ দেখে মনে হয়, এত আগে এমন সুন্দর কাজ কীভাবে সম্ভব হলো! মসজিদের উঠানে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের কবর — তাই ইতিহাস আর দেশপ্রেম, দুটোই এক জায়গায়।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে (অনেকের মতে ১৪৯৩-১৫১৯) ওয়ালী মোহাম্মদ নামের একজন মানুষ এটা বানান। মূল দরজার ওপরের শিলালিপিতে তাঁর নাম পাওয়া যায়, তবে তারিখটা মুছে গেছে। নামটা এসেছে গম্বুজ আর দেয়ালের সোনার মিহি কাজ থেকে — রোদ পড়লে পুরোটা সোনার মতো ঝলমল করত বলে লোকে বলে। পুরোনো গৌড় রাজধানীর পাশে ফিরোজপুর গ্রামে এটা। মাপ প্রায় ৮২ × ৫২.৫ ফুট, দেয়াল ৬ ফুট পুরু, ১৫টা গম্বুজের মধ্যে বাইরে থেকে ৫টা দেখা যায়। ভেতরে ৮টা কালো পাথরের পিলার আর ৫টা মেহরাব আছে। ১৮৯৭-র ভূমিকম্পে ক্ষতি হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটা সংস্কার করে রেখেছে। 'ছোট' নামটা এসেছে ভারতের গৌড়ের 'বড় সোনা মসজিদ' থেকে আলাদা করতে — ওটা মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে, আর একটু বড়।
কীভাবে যাবেন
রাজশাহী থেকে সরাসরি বাসে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত যাওয়া যায় — ভাড়া প্রায় ১৯০ টাকা, প্রতি ঘণ্টায় বাস ছাড়ে। চাপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে কানসাট হয়ে স্থলবন্দরের রাস্তাটা মসজিদের ঠিক পাশ দিয়ে গেছে — অটো বা ভ্যান থেকে নামলেই দেখা যায়। কানসাট বাজার থেকে স্থলবন্দর প্রায় ১৩ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে এলে বাস বা ট্রেনে রাজশাহী, তারপর চাপাইনবাবগঞ্জ — শেষে লোকাল বাস বা রিজার্ভ সিএনজি।
প্রবেশমূল্য
৳০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
টিকিটের কথা কেউ বলেনি — ঢোকা ফ্রি। ভেতরে দানবাক্স আছে, ইচ্ছেমতো দিলেই হলো।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
নির্দিষ্ট সময় কেউ বলেনি — এটা এখনো চালু মসজিদ, দিনের আলোতে ঘুরে দেখুন। জুমার নামাজের সময় ভিড় থাকে।
ভালো সময়
শীতের সকাল আর আমের মৌসুম (জুন-জুলাই) দুটোই ভালো সময়। গরমের দিনে বাইরে ভীষণ গরম লাগে, কিন্তু পুরু দেয়ালের কারণে ভেতরটা ঠান্ডাই থাকে।
টিপস
মসজিদের ভেতরে স্টান্ট বা বাহুল্য কিছু চলবে না — জায়গাটার পবিত্রতা রক্ষা করুন।
পাথরের মিহি কারুকাজে হাত দেবেন না — ক্ষতি করলে শাস্তি হতে পারে।
গরমের দিনে বাইরে ভীষণ গরম, কিন্তু পুরু দেয়ালের কারণে ভেতরে অসম্ভব ঠান্ডা — একটু থেকে যান।
তোহাখানা ও দারাসবাড়ি মসজিদ কাছাকাছি — রিজার্ভ ভ্যান নিলে ২০০-৩০০ টাকায় সবগুলো ঘুরে আসা যায়।
উঠানের পুরোনো কবরগুলোর নামফলক নেই — সম্মান দেখিয়ে ঘুরুন।