Beauty Of BD

গন্তব্য গাইড

ষাট গম্বুজ মসজিদ

Sixty Dome Mosque (Shat Gambuj Masjid)

বাগেরহাট এলেই সবার মুখে আগে একটাই নাম — ষাট গম্বুজ মসজিদ। যারা গিয়েছেন তারা প্রায় সবাই এক কথা বলেন — বাংলাদেশের সুলতানি আমলের সবচেয়ে বড় মসজিদ, আর ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য 'ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী বাগেরহাট'-এর প্রাণ। নামে ষাট বললেও গম্বুজ আসলে আরও বেশি — ছাদে ৭৭টা, চার কোণার টাওয়ারে ৪টা, মিলিয়ে ৮১টা বলে অভিজ্ঞরা হিসাব করেছেন। লাল ইটের দেয়াল, ভেতরের ঠান্ডা ছায়া, পাশের ঘোড়া দিঘির লাল শাপলা — অনেকের অভিজ্ঞতা হলো, দুপুরের রোদেও ভেতরে ঢুকলে একটা অন্য শান্তি। আর হ্যাঁ, দেশের ২০ টাকার নোটে ছাপানো ছবিটাই এই মসজিদ — নোটটা হাতে নিয়ে সেই ছবির সঙ্গে মিলিয়ে তুলতেই অনেকে ছবি তোলেন।

৳৩০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য

ইতিহাস ও গুরুত্ব

পঞ্চদশ শতকে সুফি-শাসক খান জাহান আলী (রহ.) এই মসজিদ বানিয়েছিলেন বলেই সবার মুখে একই কথা — তিনিই তখনকার 'খলিফাতাবাদ' অঞ্চলটা গড়েছিলেন। মসজিদে কোনো লিপি নেই, তাই সাল-তারিখ নিয়ে লোকে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে — কেউ বলেন ১৩৫৫–৭১ সাল, কেউ বলেন ৬০০ বছরের পুরোনো; ইউনেস্কো স্বীকৃতির সাল নিয়েও কেউ ১৯৮৩, কেউ ১৯৮৫ বলেন। নামটা কোথা থেকে এলো, তা নিয়েও নানা কথা — কারও মতে 'ছাদ গম্বুজ' থেকে ষাট গম্বুজ, কারও মতে ছাদ ধরে রাখা ৬০টা পাথরের খাম্বা থেকে। পাথর কোথা থেকে এলো তা নিয়েও দুটো গল্পই চালে — রাজমহল থেকে ভাসিয়ে আনা, আবার কারও মতো চট্টগ্রাম থেকে। মসজিদটা খান জাহান আলীর দরবার ছিল নাকি মাদ্রাসা ছিল — এই নিয়েও দুই মতই শোনা যায়।

কীভাবে যাবেন

মসজিদটা খুলনা–বাগেরহাট মহাসড়কের ধারেই — বাস গেটের সামনে নামিয়ে দেয়। খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড বা জিরো পয়েন্ট থেকে লোকাল বাস ৳১০০, লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা — যারা গিয়েছেন তাদের মতে জিরো পয়েন্ট থেকে উঠলে সময় বাঁচে। ঢাকা থেকে সরাসরি বাস (সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর, মিরপুর, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ি থেকে) ৳৬০০–৯০০, প্রায় ২৫০ কিলোমিটার — অনেকে কাটাখালী বা নোয়াপাড়া মোড়ে নেমে অটো ধরে আসেন। মাজার থেকে ভ্যান ভাড়া ৫–১০ টাকা, আবার হাঁটার মতো দূরত্বও।

প্রবেশমূল্য

৳৩০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য

বাংলাদেশি বড়দের জন্য ৩০ টাকা — অনেকেই একই কথা বলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের ১০ টাকা, সার্ক দেশের পর্যটকদের ২০০ টাকা, অন্য বিদেশিদের ৫০০ টাকা — গেটের টিকিট তালিকায় এই ভাড়াই দেখা যায়। নামাজের সময় ফজর থেকে ইশার মধ্যে নামাজিদের টিকিট লাগে না বলে অনেকে জানিয়েছেন। ভাড়া বদলাতে বদলাতে থাকে — গেটে জিজ্ঞেস করে নিন।

খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়

ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য খোলা — যারা গিয়েছেন তারাই জানিয়েছেন। নামাজিরা ফজর থেকে ইশা পর্যন্ত ঢুকতে পারেন। শুক্রবার জুম্মার সময় একটা সময়ের জন্য গেট বন্ধ থাকে, পরে খুলে যায়।

ভালো সময়

শীতের ভোরবেলা (অক্টোবর–মার্চ) সবচেয়ে ভালো — গরম কম, আলো নরম। শুক্রবার আর ঈদের পরের দিন ভিড় হু হু করে বাড়ে বলে অনেকে সতর্ক করেছেন।

টিপস

  • ভেতরে ঢুকলেই বোঝবেন — দুপুরের রোদেও ভেতরটা ঠান্ডা; ইট আর চুন-সুড়কির দেয়ালের কারুকাজ দেখতে দেখতে আধা ঘণ্টা চলে যায়।

  • পিছনের ঘোড়া দিঘির ধারে শাপলা আর ঠান্ডা হাওয়া — বিশ্রাম নিতে সবচেয়ে ভালো জায়গা, সামনের বড় কড়ই গাছটাও কাজের।

  • সঙ্গে একটা ২০ টাকার নোট রাখুন — নোটের ছবির সঙ্গে মসজিদ মিলিয়ে তোলাই এখানের ক্লাসিক শট।

  • মসজিদ এখনো টিকে আছে — পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুম্মা, ঈদ সবই হয়; এবাদতের সময় চুপচাপ সম্মান দেখুন।

অবস্থান

22.6745, 89.74182গুগল ম্যাপসে দেখুনস্থানাঙ্কের উৎস: Wikidata Q2834259 (P625)