গন্তব্য গাইড
ঠাকুর দিঘি
Thakur Dighi (Khan Jahan Ali's Tank)
মাজারের ধারের এই বিশাল দিঘিটা শুধু পানির জলাশয় নয় — বাগেরহাটের সবচেয়ে আলোচিত গল্পটা এর সঙ্গেই জড়ানো। লবণাক্ত এই অঞ্চলে খান জাহান আলী মিষ্টি পানির জন্য দিঘি খুদিয়েছিলেন — আর এর জলে ছিল তাঁর ছেড়ে দেওয়া কুমিরের বংশধর। 'কালা পাহাড়' আর 'ধলা পাহাড়' নামের ওই কুমিরগুলোই ছিল মাজার এলাকার প্রধান আকর্ষণ — সাড়ে ছয়শ বছরের ঐতিহ্য। তবে সাম্প্রতিক একটা শিশুর মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ শেষ কুমির 'ধলা পাহাড়'-কে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে — লোকে বলে, স্বস্তি আর কষ্ট দুটোই আছে মানুষের মনে। মসজিদের জাদুঘরে সংরক্ষিত কুমিরটার চামড়া এখনো দেখা যায়।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
জনশ্রুতি — খান জাহান আলীর ৩৬০ সঙ্গী প্রত্যেকে একটা করে দিঘি খুদিয়েছিলেন, ঠাকুর দিঘি তারই সবচেয়ে বড়টা। আয়তন নিয়ে হিসাব ভিন্ন — কেউ ১৮০ একর বলেন, কেউ বলেন ৬০০ বিঘা। অনেকে সতীশচন্দ্র মিত্রের বইয়ের কথা বলেন — খান জাহান আলী দিঘিতে দুটো কুমির ছেড়েছিলেন, মাটির নিচ থেকে পানি তুলবে 'পাহারাদার' হিসেবে। মাই কুমিরের নাম হতো ধলা পাহাড়, ভালো কুমিরের নাম কালা পাহাড় — বংশ পরম্পরায় নাম চলে আসত।
কীভাবে যাবেন
মাজার কমপ্লেক্সের ধারেই — মাজার দেখতে এলেই দেখা হয়ে যায়। ঘাটলা আর ঘাট পাকা, হাঁটার পথ ভালো।
প্রবেশমূল্য
৳০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
দেখার জন্য টিকিট লাগে না।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
দিনভর খোলা, মাজার কমপ্লেক্সের সময়সূচির সঙ্গেই চলে।
ভালো সময়
ভোরবেলা আর বিকেলের আলোয় দিঘির দৃশ্য সবচেয়ে ভালো লাগে বলেই অনেকে বলেন।
টিপস
কুমির এখন দিঘিতে নেই, তবু জলের ধারে বাচ্চাদের একা ছেড়ে দেবেন না — জলটা গভীর, আর ওই ঐতিহ্য ফেরানোর কথাও চলছে।
দিঘির জলে রোগ সারে বলে অনেক ভক্তের বিশ্বাস — এগুলো বিশ্বাস মাত্র, যাচাই করা দাবি নয়; সম্মান দিয়েই শুনুন।
ঘাটলার পাশে কুমিরের কবরগুলো দেখুন — ঐতিহ্যের শেষ চিহ্ন।
মাজারের চারপাশে খাবার ফেলবেন না — ডাস্টবিন আছে, সেখানেই ফেলুন।