
বাঘা মসজিদ — ছবি — Roaming Bangladesh · CC BY-SA 4.0
গন্তব্য গাইড
বাঘা মসজিদ
Bagha Mosque
প্রায় পাঁচশো বছরের পুরোনো সুলতানি আমলের ইটের মসজিদ — পুরো বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর প্রত্নস্থাপনার একটা। দেয়ালের পোড়ামাটির নকশায় আমগাছ, শাপলা, লতাপাতার কারুকাজ। পুরোনো ৫০ টাকার নোটে এই মসজিদের ছবিই ছাপা ছিল। পেছনে শাহ দৌলার মাজার, সামনে বিশাল দিঘি — এক টুকরো শান্ত জায়গা।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
১৫২৩-২৪ সালে (হিজরি ৯৩০) হোসেন শাহী বংশের সুলতান নসরত শাহ এটা বানান। স্থানীয় কাহিনি অনুসারে, ওই অঞ্চল তখন বাঘভরা জঙ্গল — সুফি সাধক শাহ দৌলা এখানে এলে দরবেশদের থাকার জায়গা গড়ে ওঠে, আর 'বাঘা' নামটাও বাঘের থেকেই এসেছে। ১৮৯৭-র ভূমিকম্পে ১০টা গম্বুজের সবগুলোই ভেঙে পড়ে, পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংস্কার করে; ১৯৭৬-৭৭ সালে বড় মেরামতও হয়।
কীভাবে যাবেন
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, বাঘা উপজেলায়। শহর থেকে বাসে আসা-যাওয়া জনপ্রতি প্রায় ১০০-১২০ টাকা; সিএনজি রিজার্ভ করলে প্রায় ৬০০ টাকা, সময় লাগে ৪-৫ ঘণ্টা ঘুরে আসতে। পুঠিয়া রাজবাড়ীর সাথে মিলিয়ে একদিনে ঘুরে আসা যায় — পুঠিয়া থেকে অটো বা ভ্যানে আধঘণ্টার পথ।
প্রবেশমূল্য
৳০ · নিশ্চিতকৃত
কোনো টিকিট লাগে না — মসজিদ কমপ্লেক্সে ঢোকা ফ্রি। মাজারের পাশে দান-বাক্স আছে।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
খোলা জায়গা, সারাদিন যাওয়া যায়। এখনও টিকে থাকা জীবন্ত মসজিদ — দিনে পাঁচবার নামাজ হয়। শুক্রবার জুম্মার সময় সবচেয়ে ভিড় হয়; দুপুর ১২টার দিকে তুলনামূলক ফাঁকা।
ভালো সময়
বিকেলের নরম আলোয় ইটের গায়ের নকশা সবচেয়ে সুন্দর দেখায়; ঈদুল ফিতরের পর বাঘার পুরোনো মেলা বসে। শীতে দিঘির পাড়ে অতিথি পাখি আসে।
টিপস
ভেতরে ঢোকার আগে জুতা খুলে রাখুন — এখনও নামাজপড়ুয়া মসজিদ, চুপচাপ থাকুন।
মসজিদের পূর্বদিকের দিঘি প্রায় ৫২ বিঘা বড়, পাড় ঘুরে হাঁটতে প্রায় ১ কিলোমিটার — সকালের আড্ডার জন্য দারুণ।
নামাজ শেষে ল্যাংগারখানায় তাবারক বিতরণ হলে না বলবেন না।
পথে মারামরিয়া বাজারে হাঁসভাজা খেতে ভুলবেন না — ওই রুটের আরেক নাম।
শুক্রবার সকালে বা দুপুরের আগে পৌঁছান — জুম্মার ভিড় এড়াতে।