গন্তব্য গাইড
ভাসমান সেতু (ঝাঁপা বাউড়)
Jhapa Floating Bridge (Bhasman Setu)
ঝাপা বাউড়ের নীল জলের ওপর ড্রাম বেঁধে বানানো ভাসমান সেতু — মনিরামপুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গাড়িগুলো পানির ওপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। সেটা এখন শুধু পারাপারের রাস্তা নয় — দূর-দূরান্তের মানুষও শুনে-শুনে আসেন। বাউড়ের ওপারে নৌকায় করার মজাটাও আলাদা। প্রকৃতির মাঝে একটু হারিয়ে যেতে চাইলে অনেকে এই জায়গাটাই বলেন।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
ঝাপা বাউড়ের দুই পাড়ের মানুষের যাওয়া-আসার জন্যই আসলে সেতুটা বানানো। পরে সেটাকে চওড়া করে প্রায় ১২ ফুট করা হয় — দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ মিটার বলে জানান ঘুরে এসেছেন যাঁরা। স্থানীয়দের প্রয়োজন আর পর্যটকদের আগ্রহ মিলে এখন এটা এলাকার পরিচয়ই হয়ে গেছে।
কীভাবে যাবেন
যশোর থেকে মনিরামপুরের বাস বা সিএনজি ধরুন — রাজগঞ্জে নেমে স্থানীয় ভ্যান বা অটো। অনেকে রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে একদিনে ভাসমান সেতু আর সাগরদাঁড়ি একসঙ্গে ঘুরে আসেন। ঘুরে এসে একজন হিসাব দিয়েছিলেন — পুরো দিনের রিজার্ভে প্রায় ২,২০০ টাকা পড়েছিল।
প্রবেশমূল্য
৳৫ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
পারাপারের টিকিট প্রতি জনে ৫ টাকা — কয়েকজন ঘুরে এসেই একই ভাড়ার কথা বলেছেন।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
সারাদিনই চলে — এটা স্থানীয়দের পারাপারের সেতু, সকাল থেকেই মানুষের আনাগোনা।
ভালো সময়
শীতের বিকেল সবচেয়ে সুন্দর — বাউড়ের জলে সূর্য ডোবার দৃশ্য। বর্ষায় পানি বাড়লে আরও ভালো দেখায়, তবে যাওয়ার আগে ঝড়-বৃষ্টির খবরটা দেখে নিন।
টিপস
ভিড়ের সময় ঠেলাঠেলি করবেন না — বেশি ভিড়ে সেতুতে ঝুঁকি বাড়ে।
সেতুতে হালকা দুলুনি থাকে। ভয় পাবেন না — উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি নেই বলেই জানান ঘুরে এসেছেন যাঁরা।
ওপারে গিয়ে বাউড়ের পাড়ে সময় কাটান — গ্রামবাংলার দৃশ্য এখানেই সবচেয়ে ভালো।
নৌকায় ওপারে ১০ মিনিটের বেশি লাগে না — পথে জলের ভিউটাও দেখে নিন।