
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর — ছবি — S.H. Tanim · CC BY 4.0
গন্তব্য গাইড
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর
Bholaganj Sada Pathor
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তঘেঁষা এক পাথরের রাজ্য — ধলাই নদীর স্বচ্ছ ঠান্ডা পানি, বিস্তীর্ণ সাদা পাথর আর ওপারে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়। অনেকেই বলেন, পা রাখলেই মনে হয় অন্য এক জগতে ঢুকেছেন; পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা স্রোতে গা ভাসানোই এখানকার মূল আনন্দ। কম খরচে দিনভ্রমণের জন্য লোকে একে 'গরীবের কাশ্মীর'ও বলে।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
একসময় এটা ছিল দেশের সবচেয়ে বড় পাথর কোয়ারি — ধুলোময়, ক্রাশার মেশিনে ভরা এলাকা। ১৯৬০-এর দশকে পাথর সরবরাহের জন্য রোপওয়ে আর ১৯৬৪ সালের দিকে ছাতক–ভোলাগঞ্জ রেললাইন হয়। ২০১৬ সালে পরিবেশের কথা ভেবে পাথর ভাঙা বন্ধ ঘোষণা করে সরকার — তারপর থেকে জায়গাটা ধীরে ধীরে পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সিলেট: নন-এসি বাস জনপ্রতি ৭০০ টাকা, এসি ১২০০–১৫০০ টাকা। সিলেটে হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে লোকাল সিএনজিতে ৩০ টাকায় আম্বারখানা; সেখান থেকে বিআরটিসি বাসে মাত্র ৭৫ টাকায় সোজা ভোলাগঞ্জ — অথবা সারাদিনের রিজার্ভ সিএনজি ১৮০০ টাকা। ঘাটে নেমে টিকিট কেটে নৌকায় — এক নৌকায় সর্বোচ্চ ৮ জন, যাত্রা ১০–২০ মিনিট, তারপর প্রায় আধা কিলোমিটার হাঁটা।
প্রবেশমূল্য
৳১০০–৮০০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
আলাদা প্রবেশমূল্য নেই — খরচ নৌকায়: এক নৌকায় (সর্বোচ্চ ৮ জন) যাওয়া-আসা ৮০০ টাকা বলে প্রায় সবাই বলেন; কেউ কেউ জনপ্রতি ১০০ টাকাও শুনেছেন। ঘোড়ায় চড়া ১০০ টাকা, লকার ১০০ টাকা; মাঝিকে আলাদা ২০০–৩০০ টাকা দিলে ভালো সময় নিয়ে ঘোরানো যায়।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
নির্দিষ্ট সময়সূচি শোনা যায়নি; তবে নৌকার টিকিটে সাধারণত ৩ ঘণ্টার মতো সময় দেওয়া হয়, শেষে একই নৌকায় ফিরতে হয়।
ভালো সময়
বর্ষায় পানি ভরা থাকে; শীতের শুরুতে পানি কমে যায় — তখন নদীর চ্যানেল ছাড়া বেশিরভাগ জায়গায় পানি পাওয়া যায় না। যারা গিয়েছেন তারা এই পার্থক্যটা স্পষ্ট বলেন।
টিপস
পাথরে খালি পায়ে হাঁটা যাবে না — ঘাটেই প্লাস্টিকের জুতা, গেঞ্জি, তোয়ালে কিনে নিন।
পাথরে শেওলা জমে খুব পিচ্ছিল; স্রোত আর গভীর জায়গাও আছে — সপরিবারে নামলে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
লকারে ১০০ টাকায় মোবাইল-ব্যাগ রেখে নিশ্চিন্তে গা ভাসান।
মূল ভিড় এড়িয়ে উজানের দিকে, বর্ডারের কাছাকাছি হাঁটুন — পানি স্থির আর বেশি স্বচ্ছ।
সীমান্ত এলাকা — লাল নিশান দেওয়া জায়গার ওপারে যাবেন না, বিজিবির নিয়ম মেনে চলুন।
ভারতীয় পণ্যের দোকানে মেয়াদ দেখে কিনুন — অনেকের মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস ধরা পড়েছে।
মাঝির ফোন নম্বর নিয়ে রাখলে ফেরার সময় ডেকে আনা সহজ।