Beauty Of BD

ভ্রমণ গাইড

সিলেট

Sylhet · সিলেট জেলা, সিলেট বিভাগ

পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবনমেঘালয়ের পাদদেশে সাদা পাথরমালনীছড়ার চা বাগানশাহজালালের মাজার

ভ্রমণ পরিকল্পনা

একদিনে জাফলং

  1. শ্রীপুর চা বাগানে পথ থামুন
  2. জিরো পয়েন্টে পিয়াইন নদী, সামনে ভারতের পাহাড়৳10
  3. মায়াবী ঝর্ণা — শুধু বর্ষায়৳100
  4. ফেরার পথে শাহপরান মাজার

সিলেট থেকে জাফলং সরাসরি বাসে যান; জাফলংয়ে নামার পর জিরো পয়েন্টে অটো নিন, আর মায়াবী ঝর্ণায় লোকাল নৌকা। — ৳100-150

দুই দিনে জলাবন ও সাদা পাথর

  1. প্রথম দিন: মালনীছড়া চা বাগান
  2. রাতারগুলে নৌকায় বনের ভেতর৳750-865 (ট্রিপপ্রতি)ভেতরে যেতে: ৳57.5 (জনপ্রতি)
  3. দ্বিতীয় দিন: সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ৳800 (ট্রিপপ্রতি)
  4. সন্ধ্যায় শাহজালাল দরগাহ

আম্বরখানা থেকে দিনভর সিএনজি রিজার্ভ করুন — রাতারগুল, সাদা পাথর, মালনীছড়া আর মাজার একসাথে। — ৳1,400-1,600

শহরে এক সন্ধ্যা

  1. শাহজালাল দরগাহ
  2. পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে ভর্তা-ভাত
  3. কিন ব্রিজ ও আলী আমজাদের ঘড়ি

শহরের ভেতরে রিকশায় বা হেঁটে ঘুরে দেখুন।

কীভাবে যাবেন

ভাড়া ও দাম সময়ের সাথে বদলায় — যাওয়ার আগে যাচাই করে নিন।

ঢাকা → সিলেট নন-এসি বাস

ঢাকা (সায়েদাবাদ) → সিলেট

হানিফসহ পরিচিত কোম্পানিগুলোর বাস পাওয়া যায়; জনপ্রতি ৫৫০-৮০০ টাকা। সায়েদাবাদ থেকে টিকিট কেটে নিন।

৳550-800

ঢাকা → সিলেট এসি বাস

ঢাকা → সিলেট

গ্রিন লাইনসহ কোম্পানিগুলোর এসি বাস; ৯০০-১,৫০০ টাকা। পায়ের জায়গা ও আরাম বেশি, ভাড়াও বেশি।

৳900-1,500

টিপ: গ্রিন লাইন একটু দামি, তবে তুলনামূলক আরামদায়ক।

ঢাকা → সিলেট ট্রেন (শোভন চেয়ার)

ঢাকা (কমলাপুর) → সিলেট

জয়ন্তিকা, উপবন, পারাবত ও কালনী এক্সপ্রেসে শোভন চেয়ার ৩৭৫-৪১০ টাকা।

৳375-410

টিপ: টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় খোলে; রেলসেবা অ্যাপ বা বাংলাদেশ রেলওয়ের সাইটে কাটুন। এক আইডিতে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট।

ঢাকা → সিলেট ট্রেন (স্নিগ্ধা)

ঢাকা (কমলাপুর) → সিলেট

স্নিগ্ধা এসি চেয়ার ৭১৯-৭৮৮ টাকা; ভাড়া শোভনের চেয়ে বেশি, তাই আগে টিকিট নিন।

৳719-788

টিপ: রিটার্ন টিকিটও একই সময়ে কেটে রাখুন — শেষ দিনে টিকিট পাওয়া কঠিন।

সিলেট → জাফলং বাস

সিলেট (সুবানীঘাট/সোমনীঘাট) → জাফলং

সরাসরি বাসে ১০০-১৫০ টাকা, দেড়-দুই ঘণ্টা। কাউন্টার ও গেটলক বাসে ভাড়া আলাদা।

৳100-150

টিপ: শ্রীপুর চা বাগানে নামতে চাইলে চালককে আগে বলে নিন, নাহলে বেশি দূরে নিয়ে যাবে।

সিলেট → জাফলং দিনভর সিএনজি

সিলেট → তামাবিল/জাফলং/লালাখাল

সারাদিনের রিজার্ভ ২,০০০-৩,৫০০ টাকা; দল বড় হলে ভাগে জনপ্রতি কম পড়ে। জাফলং, তামাবিল ও লালাখাল একসাথে করা যায়।

৳2,000-3,500

টিপ: আগে দাম ঠিক করে নিন — ভাড়া মৌসুমে বাড়ে।

আম্বরখানা → রাতারগুল ও সাদা পাথর (দিনভর সিএনজি)

সিলেট (আম্বরখানা) → রাতারগুল → সাদা পাথর

দিনভর রিজার্ভ ১,৪০০-১,৬০০ টাকা; রাতারগুল, সাদা পাথর, মালনীছড়া আর মাজার একসাথে ঘোরা যায়।

৳1,400-1,600

টিপ: সিজনে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত চাইতে পারে — দরদাম করুন।

রাতারগুলে ডিঙি নৌকা

রাতারগুল মটরঘাট → বনের ভেতর

পাঁচ-ছয় জনের ডিঙি ৭৫০-৮৬৫ টাকা; এক থেকে দেড় ঘণ্টায় বন ঘুরে দেখানো হয়।

৳750-865 (ট্রিপপ্রতি)

টিপ: মটরঘাটের সামনের বাজার থেকে টিকিট নিন; সিরিয়াল অনুযায়ী নৌকা পাওয়া যায়।

ভোলাগঞ্জ → সাদা পাথর নৌকা

ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর ঘাট → সাদা পাথর

নৌকা ৮০০ টাকা; আটজন হলে জনপ্রতি ১০০ টাকা পড়ে। এক-দুজনেও পুরো নৌকা নিতে পারেন।

৳800 (ট্রিপপ্রতি)

টিপ: ফেরার জন্য নৌকাচালকের নম্বর নিয়ে রাখুন।

জাফলং → মায়াবী ঝর্ণা নৌকা

জাফলং → মায়াবী ঝর্ণা

লোকাল নৌকায় জনপ্রতি ১০০ টাকা; এক নৌকায় ১০-১৬ জন ধরে।

৳100

টিপ: টিকিট ওঠার সময় নয়, ফেরার পথে দেখাতে হয় — ফেলে দেবেন না।

দেখার জায়গা

জাফলং এলাকার চা-বাগান ও কুয়াশা-ঢাকা পাহাড়

জাফলং জিরো পয়েন্ট

সিলেট শহর থেকে ৫৫-৬৫ কিমি। জিরো পয়েন্টে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, সামনে ভারতের খাসি ও জৈন্তা পাহাড়; সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলে পাথরের চরে পর্যটকদের ভিড়।

মনে রাখুন: সীমান্তে রশি টানা — ওপারে পার হবেন না। সাইনবোর্ডে লেখা পার হওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।

মায়াবী ঝর্ণা

জাফলংয়ের পাশে। বর্ষায় পানির প্রবাহ ভালো, শীত বা অফসিজনে প্রায় শুকনো থাকে — তখন দেখার মতো কিছু নেই।

মনে রাখুন: শুকনো মৌসুমে গেলে ঝর্ণা পাবেন না — বর্ষায় যান।

রাতারগুল জলাবন — পানির নিচে ডুবে থাকা গাছ আর সবুজ প্রতিফলন

রাতারগুল জলাবন

দেশের একমাত্র স্বীকৃত মিঠাপানির জলাবন; শহর থেকে ২০-২৪ কিমি। বর্ষায় চার-সাত মাস গাছের বেশিরভাগ অংশ পানির নিচে থাকে; অনেকেই একে বাংলার আমাজন বলেন।

ভেতরে যেতে: ৳57.5 (জনপ্রতি)

সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ — ছবি

সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ

কোম্পানীগঞ্জে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে সাদা-মিশ্র পাথরের ওপর ঠান্ডা স্বচ্ছ পানি; বর্ষায় স্রোত বাড়ে।

মনে রাখুন: পাথর পিচ্ছিল — সাবধানে হাঁটুন। না সাঁতারুদের গভীর পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ।

বিছানাকান্দি — ছবি

বিছানাকান্দি

গোয়াইনঘাটের রুস্তুমপুরে পাথরের বিছানা; শহর থেকে ৩৯ কিমি, দেড়-দুই ঘণ্টা। পাহাড় ঘেঁষে মোটরসাইকেলে যেতে হয়।

মালনীছড়া চা বাগান

শহর থেকে ৪ কিমি। উপমহাদেশের প্রথম ও বড় চা বাগান বলা হয়; প্রতিষ্ঠার বছর নিয়ে ১৮৪৯ ও ১৮৫৪ — দুই সূত্রে দুই কথা।

লালাখাল

শাড়িঘাট থেকে নৌকায় যেতে হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে পানি কমলে নদী নীল দেখায়; ৮-১০ জন না হলে অন্য দলের সঙ্গে নৌকা শেয়ার করুন।

শাহপরান মাজার

শহর থেকে ৭ কিমি; শাহজালালের ভাগ্নে ও ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম শাহপরানের মাজার পাহাড়ি টিলায়।

মনে রাখুন: মাজারে ছবি ও ভিডিও নিষেধ — সম্মান করুন।

শ্রীপুর চা বাগান

সিলেট-জাফলং সড়কের পাশে টিলার ওপর; বর্ষায় মেঘালয়ের মেঘ দেখার ভালো জায়গা। বাসচালককে আগে বলে নামুন, তারপর বাগানের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত হাঁটুন।

খাবার

  • পানসি রেস্টুরেন্ট

    ৳50-60

    হুমায়ুন চত্বর ও স্টেশনের কাছে বিখ্যাত নাস্তার জায়গা; খিচুড়ি, পরোটা, সবজি আর স্পেশাল চা। সকালের নাস্তা জনপ্রতি ৫০-৬০ টাকা।

  • পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট

    ৳200-360

    প্রায় ৩০ আইটেম ভর্তা; ভাত, চিকেন ঝাল ফ্রাই, ভর্তা আর শাক মিলিয়ে দুজনের খাবার ৩৬০ টাকা, ২০০ টাকাতেও পেট ভরে।

  • জাফলং বাজারের হোটেল

    ৳100

    জাফলং বাজারের পাশের হোটেলে বাজেট দুপুর ১০০ টাকায়; ভেজা কাপড় বদলানোর জায়গাও আছে।

কোথায় থাকবেন

দরগা গেট, লালাবাজার ও আম্বরখানা

দরগা গেট ও লালাবাজারে ৫০০-১,০০০ টাকার মানসম্মত রুম পাওয়া যায়; মাজারের পাশে ৭০০-৮০০ থেকে শুরু। আম্বরখানায় জনপ্রতি ৩০০ টাকার রুমও আছে। হোটেল হিলটাউন, গুলশান, দরগা গেট, সুরমা ও কাইকোবাদ পরিচিত নাম।

৳300-2,000
  • ফোন করে ভাড়া ও এসি রুমের রেট জেনে নিন, তারপর রিভিউ দেখে বুক করুন।
  • দরগা গেটের আশপাশে দামি ও কম দামের — দুই ধরনের হোটেলই আছে; ঘর দেখে নিন।

জানা জরুরি

  • সাদা পাথরে পাথর পিচ্ছিল — সাবধানে হাঁটুন। স্রোতের গভীরে যাবেন না; না সাঁতারুদের ভরা পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ।
  • জাফলং জিরো পয়েন্টে সীমান্তে রশি টানা — রশি পার হওয়া সীমান্ত লঙ্ঘন। স্টাফরা ওপারে যেতে দেন না; ওইদিক ভারত।
  • পর্যটন এলাকায় আগে দাম ঠিক করুন। জাফলংয়ে সিন্ডিকেটের ফাঁদে পর্যটকের আনন্দ নষ্ট হওয়ার ঘটনা আছে।
  • শাহপরান মাজারে ছবি ও ভিডিও নিষেধ — সম্মান করুন।

ভাড়া ও দাম সময়ের সাথে বদলায় — যাওয়ার আগে যাচাই করে নিন।

টিপস

  • ঢাকা-সিলেট ট্রেনের টিকিট ১০ দিন আগে সকাল ৮টায় খোলে; রেলসেবা অ্যাপ বা বাংলাদেশ রেলওয়ের সাইটে কাটুন। এক আইডিতে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট।
  • ঢাকা ফেরার বাসের টিকিট আগেই, দরগা গেটের কাউন্টার থেকে কেটে রাখুন — ছুটির দিনে ভালো সিট মেলে না।
  • জাফলং থেকে সন্ধ্যার আগে ফিরুন — বিকেল গড়িয়ে গেলে লোকাল বাস পাওয়া কঠিন। জাফলং বাজারে সাড়ে সাতটা-আটটা পর্যন্ত গেটলক ও লোকাল গাড়ি মেলে।
  • মায়াবী ঝর্ণার টিকিট ওঠার সময় নয়, ফেরার পথে দেখাতে হয় — টিকিট ফেলে দেবেন না।
  • একদিনে জাফলং, সাদা পাথর, লালাখাল আর রাতারগুল — চারটির মধ্যে দুটির বেশি রাখবেন না; শহরের কাছের মাজার ও চা বাগান অল্প সময় নেয়।
  • বাসচালককে শ্রীপুর চা বাগানে নামিয়ে দিতে বলুন, নাহলে বেশি দূরে নিয়ে যাবে; বাগানের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পাঁচ মিনিট হাঁটুন।
  • জাফলং জিরো পয়েন্টের সানগ্লাসের দোকানগুলো একই মালিকানার — দাম অবশ্যই দর করুন।
  • মায়াবী ঝর্ণা দেখতে বর্ষায় যান; লালাখালের নীল পানি দেখতে নভেম্বর-ডিসেম্বর।

হালনাগাদ: 19 অক্টোবর 2026

জেলার পাতা