
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর — ছবি — Nahid.rajbd · CC BY-SA 4.0
গন্তব্য গাইড
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
Varendra Research Museum
বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর, শহরের বুকে হেতেমখায় — রাজশাহী কলেজের ঠিক সামনে। এক হাজার বছরের পুরোনো পাল-সেন আমলের দেবদেবীর মূর্তি, বুদ্ধপ্রতিমা, পাহাড়পুরের পোড়ামাটির ফলক, মৌর্য-গুপ্ত আমলের মুদ্রা — সব মিলিয়ে হাজারখানেক নিদর্শন প্রদর্শিত। দক্ষিণ এশিয়ার ধনী প্রত্নসংগ্রহের একটা বলেই অভিজ্ঞরা বলেন।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
১৯১০ সালে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি গড়ে তোলেন কুমার সরত কুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় আর রামপ্রসাদ চন্দ। নিজস্ব ভবন হয় ১৯১৩ সালে, দরজা খোলে ১৯১৯-এ। ১৯২৩ সালে পাহাড়পুর খননে ২৫৬টা নিদর্শন এখানেই আসে। ১৯৬৪ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এটা চালায়। সংগ্রহের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে — পরিচালক মহোদয় বলেন ১৭ হাজারের বেশি, কেউ কেউ বলেন ৯ হাজারের কাছে।
কীভাবে যাবেন
সাহেব বাজার শূন্য বিন্দু থেকে হাঁটার মতো দূরত্ব, মাত্র ৮০০ মিটারের মতো। শহরের যেকোনো জায়গা থেকে রিকশায় 'হেতেমখা জাদুঘর মোড়' বললেই ছেড়ে দেবে — ভাড়া ৩০-৪০ টাকার মতো। রেলস্টেশন থেকে এলে রাজশাহী কলেজের পাশ দিয়ে হেঁটেও যান অনেকে।
প্রবেশমূল্য
৳২০–২০০ · নিশ্চিতকৃত
বাংলাদেশি বড়দের টিকিট ২০ টাকা, বিদেশি দর্শনার্থী ২০০ টাকা; শিশুদের টিকিট লাগে না।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা–বিকেল ৫টা; বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বন্ধ, সরকারি ছুটিতেও বন্ধ।
ভালো সময়
শীতের সকাল — ফাঁকা দিনে ভিড় কম থাকে, এক-দুই ঘণ্টায় পুরোটা দেখা যায়।
টিপস
ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ — ক্যামেরার জন্য বাইরের ফুলেল উঠোন আর বারান্দা রাখুন।
বৃহস্পতিবার বন্ধ মনে রাখুন, নইলে দরজায় দাঁড়িয়ে ফেরা ছাড়া উপায় থাকে না।
প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে লেখা বই ভেতরেই বিক্রি হয় — সংগ্রাহকদের প্রিয়।
বাচ্চাদের নিয়ে গেলে বাইরের বাগানে বসে নাস্তা করার জায়গা আছে; সামনে পানির ব্যবস্থাও।
দর্শক কম হলে কর্মীরা নিজে থেকেই ইতিহাস বুঝিয়ে দেন — জিজ্ঞেস করতে দ্বিধা করবেন না।