গন্তব্য গাইড
হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান ও ঝর্ণা
Himchari National Park & Waterfall
সমুদ্রের ধারেই পাহাড়-ঝর্ণা-সমুদ্র — এক টিকিটে তিনটা একসাথে; কক্সবাজারের কাছে এমন জায়গা আর নেই। লোকে বলে — ঝর্ণা না দেখলে কক্সবাজার ট্রিপ অসম্পূর্ণ। ওপরে বিশাল চূড়া, কংক্রিটের সিঁড়ি, ঝুলন্ত ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার আর 'আই লাভ হিমছড়ি' ফ্রেম। চূড়া থেকে পুরো সৈকত দেখা যায়, সমুদ্রের রং তিন স্তরে চোখে পড়ে — এমনটাই জানান একজন।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
এক বিবরণে আছে — পাহাড়টার পুরোনো নাম 'হিমপুরির পাহাড়'; শোনা যায়, সমুদ্র থেকে ওঠা পরীরা চূড়ায় বিশ্রাম নিত। আগে স্থানীয়রা এখানে জ্বালানি কাঠ-খাড়ি নিত; কয়েক বছর আগেও কাঁচা রাস্তাই ছিল — এখনকার সিঁড়ি, বিশ্রামঘর আর টাওয়ার সবই নতুন, আরও নির্মাণ চলছে।
কীভাবে যাবেন
ডলফিন মোড় থেকে প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার (শহর থেকে ১২), অটো/সিএনজিতে ২০-২৫ মিনিট। লোকাল সিএনজি ৳৫০/জন; রিজার্ভ ৳২০০-২৫০; পুরো মেরিন ড্রাইভ রাউন্ড ট্রিপ ৳১,১০০ পর্যন্ত (ডলফিন মোড়ে দরদাম করুন)। চাঁদের গাড়ি দিনভর ৳৪,০০০ — ১০-১৫ জন ভাগ করে নিন, জন যতই হোক ভাড়া একই।
প্রবেশমূল্য
৳৪০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
৳৪০/জন — সবচেয়ে প্রচলিত অঙ্ক (একজন শুনেছিলেন ৩০, কিন্তু ৪০ কাটল; ৩০ বা ৫০ও শোনা যায়)। একই টিকিটে পাহাড় আর ঝর্ণা দুটোই; ভেতরের গেটে চেক করে।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
সকাল ৮টার আগে খোলে না বলে একটা বিবরণে এসেছে। শুক্রবার ভিড় থাকে ভীষণ।
ভালো সময়
ঝর্ণা শুধু বর্ষায় বইয়ে যায় — শীতে শুকনো বা ফোঁটায় ফোঁটায়। ঝর্ণা দেখতে চাইলে বর্ষায় আসুন; সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে বিকেলে চূড়ায় উঠুন। জনপ্রিয় রুটিন — দুপুরের পর পাটুয়ারটেক-ইনানী ঘুরে বিকেলের আলোয় হিমছড়ি।
টিপস
ফটোগ্রাফার ধোঁকা এখানেও চলে — '৫-১০টা ছবি' বলে শত শত তুলে টাকা চায়; আগেই কয়টা ছবি কত টাকা ঠিক করে নিন, নাহলে না বলুন।
ঝর্ণা আসল না নকল — এ নিয়ে মানুষের মধ্যে দুই মত; স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাকৃতিক স্প্রিংয়ের কথা বলেন, কেউ কেউ পাম্পের পানির সন্দেহ করেন — দুই কথাই শুনে আসুন।
চূড়ার ফটো-চেয়ার ৳১০/৩ মিনিট। ডাব ৳১৫০-১৬০, পাহাড়ি পেঁপে ৳৫০/প্লেট; গেটের বাইরে বার্মিজ মার্কেট।
হিমছড়িতে থাকার হোটেল নেই — শহরে ফিরে থাকুন।