
হরিণ পয়েন্ট — ছবি — Faisal Akram from Dhaka, Bangladesh · CC BY-SA 2.0
গন্তব্য গাইড
হরিণ পয়েন্ট
Hiron Point
সুন্দরবনের সবচেয়ে দক্ষিণের পর্যটন পয়েন্ট, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ — যেখানে হাজার হাজার চিত্রা হরিণ ঘুরে বেড়ায়, ভাগ্য ভালো হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছায়াও মেলে। একদিনের ট্রিপে যাওয়ার জায়গা নয় — জাহাজ নিয়ে অন্তত দুই-তিন দিনের প্ল্যান করতে হয়।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
চিত্রা হরিণের অবাধ বিচরণের জন্যই নাম হরিণ পয়েন্ট। সুন্দরবন পশ্চিম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ভেতরে, কুঙ্গা নদীর তীরে বন বিভাগের নীলকমল স্টেশন। ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবর এখান থেকেই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল — স্থানীয়দের গর্বের কথা।
কীভাবে যাবেন
খুলনার জেলখানা ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়ে; রূপসা সেতু আর মোংলা বন্দর পেরিয়ে নৌপথ। মোংলা থেকে প্রায় ৮০-৯০ কিলোমিটার নদীপথ। সমুদ্রে জাহাজ নোঙর ফেলে ট্রলারে করে ভেতরে ঢোকা হয় — লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
সুন্দরবনে ঢোকার বন বিভাগের পারমিট লাগে (সর্বোচ্চ ৫ দিনের, ১৫০-২০০ টাকা/দিন বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ)। ৩ দিন ২ রাতের জাহাজ প্যাকেজ ১১,০০০-২৫,০০০ টাকা জনপ্রতি — খাবারসহ, জাহাজ ভেদে।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
জোয়ারের সময়ই ঢোকা যায় — পানি নামলে ছোট খাল দিয়ে ঢোকা যাবে না। বনকর্মীর নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হয়।
ভালো সময়
নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি — শীতে হরিণ বেশি দেখা যায়, অতিথি পাখির ডাক শোনা যায়, খালগুলো চলাচলের উপযোগী থাকে।
টিপস
দল ছেড়ে কখনো একা হাঁটবেন না — জামতলার বিচে গাইডের নির্দেশ না মেনে দূরে গিয়ে বাঘের গর্জন শোনা দলের গল্প অনেকেই শুনেছেন।
একটা সোজা লাঠি হাতে রাখুন — প্রায় প্রতিটা দলই করে।
বুনো পশুপাখির কাছে জোরে কথা বলবেন না, খাবার দেবেন না।
অবস্থান
এই গন্তব্যের সঠিক স্থানাঙ্ক এখনো যাচাই করা যায়নি — তাই মানচিত্রে নির্দিষ্ট অবস্থান দেখানো হচ্ছে না।