গন্তব্য গাইড
কালভৈরব মন্দির
Kal Bhairab Temple
মেদদার পুরোনো শিবমন্দিরটার নামটাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এলে সবার মুখে আগে আসে। যারা গিয়েছেন তারা প্রায় সবাই এক কথা বলেন — বিশাল শিবমূর্তিটা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। অনেকে বলেন মূর্তিটা প্রায় ২১ হাত উঁচু, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলোর একটা — সবাই এই গর্বটা নিয়েই কথা বলে। আর মন্দিরের আসল টান অন্য জায়গায় — হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে নিজেদের বলেই এর যত্ন করে, কথাটা শুনলেই মন ভালো হয়ে যায়।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
মন্দিরটা প্রায় চারশো বছরের পুরোনো বলে লোকে বলে। ফাল্গুন মাসে এখানে বিরাট মেলা বসে — লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় হয় বলে অনেকে বলেছেন। আর সবার মুখে মুখে যে কথাটা সবচেয়ে বেশি ফেরে — অশান্তির সময় পাশের মুসলমান প্রতিবেশীরাই মূর্তি রক্ষা করেছিলেন। ওই ভালোবাসার গল্পটাই মন্দিরের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
কীভাবে যাবেন
শহরের ভেতরেই মেদদা এলাকা — স্টেশন থেকে অটোতে ২০ টাকা করে, তারপর রিকশা নিলেই মন্দিরের সামনে নেমে যাওয়া যায়। চাইলে অটো রিজার্ভ করে এক ঘণ্টায় শহরের দর্শনীয় জায়গাগুলো ঘুরে আসা যায় — যারা গিয়েছেন তারা বলেছেন, ভাড়া প্রায় ৪০০ টাকা। মেদদা বাস স্ট্যান্ডের গা ঘেঁষেই মন্দির — পথ জিজ্ঞেস করলেই সবাই দেখিয়ে দেবে।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
টিকিটের কথা কেউ বলেনি — লোকে সরাসরি ঢুকে যায় বলেই মনে হয়। তবু যাওয়ার আগে স্থানীয়দের কাছে জেনে নিন।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
খোলা-বন্ধের ঠিক সময়টা যাচাই করা যায়নি — দিনের আলোতে গেলে নিরাপদ। পুজোর সময় ভেতরে ঢোকার নিয়মকানুন মেনে চলুন।
ভালো সময়
সকালবেলা ভিড় কম, দেখার আরাম। ফাল্গুন মাসের মেলায় আসল উৎসব দেখা যায়, তবে তখন ভিড় হু হু করে বাড়ে — নিজের জিনিসপত্রের খেয়াল রাখবেন।
টিপস
ভেতরে ঢোকার আগে জুতো খুলে বাইরে রেখে যাবেন।
মেলার দিনগুলোতে মোবাইল আর মানিব্যাগ বুকের কাছে রাখুন — ভিড় অনেক।
পাশের লোকনাথ দিঘি আর পুরোনো বটগাছটাও দেখে আসুন — একসঙ্গেই দেখে নেওয়া যায়।