গন্তব্য গাইড
মুহুরী প্রকল্প
Muhuri Irrigation Project
ফেনীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণের কথা বলতে গেলে অনেকের মুখে প্রথম নামটাই আসে মুহুরী প্রকল্পের। ফেনী, মুহুরী আর কালীদস-পহলিয়া নদীর মোহনায় বিশাল বাঁধ, চারদিকে পানি আর আকাশ। সূর্যাস্টের সময়টা যারা দেখে এসেছেন, তারা প্রায় সবাই এক কথাই বলেন — মিস করা যাবে না।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প — বন্যা আর লবণাক্ততা ঠেকাতেই বানানো হয়েছিল। কাজ শুরু ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে, শেষ হয় ১৯৮৫-৮৬-এ। প্রায় ৪০টা স্লুইস গেটের এই বাঁধেই দেশের প্রথম বায়ুশক্তি কেন্দ্র (২০০৫) দাঁড়িয়ে ছিল — এখন অবশ্য অযত্নে পড়ে আছে বলেই অভিজ্ঞদের অভিযোগ।
কীভাবে যাবেন
ফেনী শহর থেকে সোনাগাজীমুখী বাস বা সিএনজি ধরুন; রিজার্ভ সিএনজি নিলে প্রায় ২০০ টাকা। সোনাগাজী থেকে লোকাল অটো নিয়ে প্রকল্প গেট — জোড়ারগঞ্জ থেকে ১০ টাকার মতো। চট্টগ্রাম থেকে আসলে মীরসরাই/জোড়ারগঞ্জ হয়েও যাওয়া যায়। বাঁধের ধারে ইঞ্জিন নৌকা ৫০ টাকা জনপ্রতি।
প্রবেশমূল্য
৳০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
ভেতরে ঢুকতে টাকা লাগে না; নৌকায় ঘুরতে ৫০ টাকা জনপ্রতি, পুরো নৌকা ৩৫০-১২০০ টাকায় দরদাম করলেই হয়।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
নির্দিষ্ট সময় নেই — খোলা জায়গা। বিকেলের দিকে ভিড় জমে।
ভালো সময়
সূর্যাস্তের সময়টাই মূল আকর্ষণ। নভেম্বর-মার্চ সবচেয়ে ভালো — পানি শান্ত থাকে, শীতে পরিযায়ী পাখিও আসে। শুক্রবারে ভিড় অনেক বেশি।
টিপস
গেট খোলা থাকলে স্রোত বেশ জোরে — বাঁধের ধারে কাদাও পিচ্ছিল, ওঠানামায় সাবধানে যাবেন।
বর্ষায় অভিজ্ঞ মাঝি ছাড়া নৌকায় উঠবেন না — স্রোত তখন বিপজ্জনক।
যাওয়ার রাস্তাটা এদিক-ওদিক ফাটল ধরা — হাতে বাড়তি সময় রাখবেন।
ফেরার পথে সোনাগাজীর মহিষের দুধের দই না নিলে লোকসান — প্রায় সবাই এটাই বলেন।
অবস্থান
এই গন্তব্যের সঠিক স্থানাঙ্ক এখনো যাচাই করা যায়নি — তাই মানচিত্রে নির্দিষ্ট অবস্থান দেখানো হচ্ছে না।