গন্তব্য গাইড
নেয়ামতুল্লাহর মাজার (তোহাখানা কমপ্লেক্স)
Shah Neyamatullah's Shrine (Tahkhana Complex)
ছোট সোনা মসজিদ থেকে হাঁটা দূরত্বেই তোহাখানা কমপ্লেক্স — ভেতরে সুফি সাধক শাহ সৈয়দ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালীর মাজার, শাহ সুজার বানানো মুঘল আমলের মসজিদ, ১৭ ঘরের তোহাখানা ভবন, আর তালাবে শেফা পুকুর। অনেকের অভিজ্ঞতায় এখানকার পরিবেশ ভীষণ শান্ত — অন্য মন্দির-মাজারের ভিড় থেকে এসে ঢুকলে একটা আলাদা স্বস্তি লাগে।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী গৌড় অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে এসেছিলেন; প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী সুবাদার শাহ সুজা তাঁর শিষ্য হন, আর তাঁর জন্য এই তোহাখানা — 'ঠান্ডা প্রাসাদ' — বানিয়ে দেন। সমাধিভবনটাকে অনেকে মুঘল আমলের প্রথম সমাধি স্থাপত্য বলেন, আর কমপ্লেক্সটা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত। বিখ্যাত কাহিনিটা হলো — জমি চাইতে এলে শাহ সুজা বিষ মেশানো পানির এক গ্লাস দেন; অর্ধেক পান করে বাকি অর্ধেক পুকুরে ঢাললে পুকুরের পানি মিষ্টি হয়ে যায় — নাম হয় 'তালাবে শেফা' (রোগমুক্তির পুকুর)। মাজারে 'জিন্দা পাথর' নামের একটা পাথর আছে — লোকে বলে, প্রতি বছর এটা বাড়ে। মাজার কমিটি হয়েছে ১৯৬৪ সালে।
কীভাবে যাবেন
ছোট সোনা মসজিদ থেকে প্রায় ৫০ মিটার উত্তর-পশ্চিমে, পুকুরপাড় ঘুরে হাঁটতেই পৌঁছে যাবেন। চাপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার — কানসাট হয়ে অটো বা সিএনজি করে আসুন।
প্রবেশমূল্য
৳০ · ভ্রমণকারীদের দেওয়া তথ্য
কোনো টিকিটের কথা কেউ বলেনি — ঢোকা ফ্রি।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
কমপ্লেক্স দিনের বেলায় খোলা থাকে। সমাধিভবনের ভেতরে ঢোকার দরজা বন্ধ থাকে — খাদেমকে বললে খুলে দেখায়। পাশের মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়।
ভালো সময়
সারা বছরই যাওয়া যায়। ওরস দুবার হয় — ১ মুহররম, আর ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতি-শুক্রবার। ওরসের সময় ভিড় বেশি, আর বাকি সময় শান্ত।
টিপস
সমাধিভবনের ভেতরে ঢুকতে হলে খাদেমকে বলে ঢুকুন — দরজা সবসময় খোলা থাকে না।
তালাবে শেফা পুকুর আর জিন্দা পাথর দেখতে ভুলবেন না — স্থানীয়দের মুখ থেকে কাহিনিগুলো শুনলে ভ্রমণটা আরও মজার হয়ে ওঠে।
ছোট সোনা মসজিদ, তোহাখানা, খানিয়াদিঘি আর দারাসবাড়ি একসঙ্গে ঘোরার মতো — একটা রিজার্ভ ভ্যানেই হয়ে যায়।