গন্তব্য গাইড
শংকরপাশা শাহী মসজিদ
Shankarpasha Shahi Masjid
এটা জীবন্ত মসজিদ, তাও আবার দেশে টিকে থাকা হাতেগোনা সুলতানি স্থাপত্যের একটা — মোটা ইটের দেয়াল, বড় গম্বুজের পাশে তিনটা ছোট, কারুকাজ করা ছয়টা স্তম্ভ, মূল কাঠামোয় পনেরোটা দরজা। বছরের পর বছর পড়ে ছিল, জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে গ্রামবাসীরা খুঁজে পায়, আর এখন যত্ন করে সংস্কার চলছে।
ইতিহাস ও গুরুত্ব
শিলালিপি অনুযায়ী সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলের — বানিয়েছিলেন তাঁর কর্মকর্তা শাহ মজলিস আমিন; ভিত পড়ে ১৪৯৩ সালে, কাজ শেষ ১৫১৩-এ। তিন দিকের দেয়াল প্রায় ৫ ফুট, পশ্চিম দেয়াল প্রায় ১০ ফুট পুরু। কেউ কেউ বলেন, কালো পাথর নদীপথে আনা হয়েছিল (গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদের সাথে তুলনা করেন); অফিসিয়াল বিবরণে সেটা ইট।
কীভাবে যাবেন
হবিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি, রাজিউড়া ইউনিয়নে — সিএনজি/অটোয়ে ৳৩০–৫০। রাজিউড়া বা গ্রামের নামে জিজ্ঞেস করুন; শুধু 'শংকরপাশা' বললে অনেকে চেনে না।
প্রবেশমূল্য
প্রবেশমূল্য এখনো জানা যায়নি
ফ্রি; এটা জীবন্ত মসজিদ — শালীন পোশাকে যান, আর শুধু ঘুরতে এলে নামাজের সময়টা এড়িয়ে যান।
খোলা-বন্ধ ও ভালো সময়
নামাজের সময়ের আশপাশে খোলা থাকে; সন্ধ্যার আগেই দেখে নিন।
ভালো সময়
শুকনো মৌসুম — জেলার এই অংশে বৃষ্টি বেশি; ভেজা দিনে ট্রিপ নষ্ট হতে পারে।
টিপস
রাত কাটাতে হলে শায়েস্তাগঞ্জ (নাদিফা হোটেল, রুম ৳৩০০, শোনা মতে ভালোই); কাছেই ধানশিরি রেস্টুরেন্টে ভাত-ডালভাজি-চিকেন গ্রিল প্রায় ৳১৬৫।
মসজিদ কমিটির লোকেরা আবিষ্কারের গল্প বলেন — কীভাবে বন্যা আর জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে মসজিদটা বেরিয়ে এলো।
অবস্থান
এই গন্তব্যের সঠিক স্থানাঙ্ক এখনো যাচাই করা যায়নি — তাই মানচিত্রে নির্দিষ্ট অবস্থান দেখানো হচ্ছে না।